সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০৭:৫৭ অপরাহ্ন

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ভোলা- লক্ষীপুর মহাসড়ক অবরোধ

সাব্বির আলম বাবু (ভোলা ব্যুরো চিফ):
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৬০ বার পঠিত

ভোলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পূর্ব ইলিশা ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ নেতার উপর হামলার প্রতিবাদে ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়ক অবরোধ হয়। শুক্রবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুর ৩টায় ইলিশা ইউনিয়ন পাকার মাথা এলাকায় নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: সরোয়ার্দ্দীর কর্মী সমর্থক মো: মহসিনের উপর স্বতন্ত্র বিজয়ী চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটনের কর্মীরা হামলা করেছে বলে অভিযোগ করেন। এর প্রতিবাদে বিকাল ৪টা থেকে ৭টা পর্যন্ত ৩ ঘন্টা ইলিশা বাজার বটতলা এলাকা ভোলা-লক্ষীপুর মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে জেলা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় পুরো ইউনিয়ন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে সন্ধ্যায় আনোয়ার হোসেন ছোটনের সমর্থক মোঃ গোলাম নবী ভোলায় আসার পথে পরাজিত প্রার্থী সরোয়ার্দ্দীর লোকজন মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোঃ গোলাম নবীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইলিশার হাট বাজারে তাকে মারধর করা হয় বলে ছোটন জানিয়েছেন। নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ সরোয়ার্দ্দী জানায়, বিকালে আমার নৌকা প্রতীকের সমর্থক শ্রমিকলীগ নেতা মহসিন ইলিশা ঘাট থেকে ফেরার পথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা তার উপর অতর্কিত হামলা করেন। এই ঘটনা পুরো ইউনিয়ন ছড়িয়ে পরলে অন্য সমর্থকরা ভোলা বরিশাল সড়ক অবরোধ করে রাখেন। তিনি এ ঘটনার বিচারের দাবি জানান। এদিকে নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে তারা নানা নাটক করে আসছে। নির্বাচনের দু’দিন আগে আমাকে লক্ষ করে গুলি করা হয়েছে। আমার কর্মী সমর্থক ও নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর করছে। গত ৫ জানুয়ারি ভোটের দিন জনগণের রায়ে আমি চেয়ারম্যান নির্বাচীত হয়েছি। জনগণের এই রায় আমার প্রতিদ্বন্দ্বি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মেনে না নিতে পেরে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি জণসাধারণের ভোগান্তি করে সড়ক অবরোধ করেছে। পরাজিত নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা সন্ধ্যায় আমার সমর্থক গোলাম নবীকে ইলিশার হাটে বেধড়ক মারধর করেছে। ছোটন আরও বলেন, নির্বাচনী আমি বিজয়ী হওয়ার পর সমর্থকদেরকে বিজয় মিছিল করতে নিষেধ করেছি। এছাড়াও কোন ধরণের সহিংসতা না করার জন্য সবাইকে নির্দেশ দিয়েছি এবং এলাকায় মাইকিং করেছি। এ সময় তিনি এ ঘটনার সঠিক তদন্ত করে বিচারের দাবি জানান। ভোলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ফরহাদ সর্দার জানান, নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকের উপর নব-নির্বাচীত চেয়ারম্যান হামলা করেছে এমন অভিযোগ করে নৌকার সমর্থকরা ভোলা-লক্ষীপুর সড়ক অবরোধ করেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করি ভবিষ্যতে এরকম কোন ঘটনা ঘটবে না, আমরা ভোলা সদর থানাকে একটি সুশৃঙ্খল থানা হিসেবে গরে তুলতে সক্ষম হবো।
এ ঘটনার পর নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন ছোটন ভোলা থানায় ওসি এনায়েত হোসেনের সাথে কথা বলার জন্য যান। এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর খবর পেয়ে শত শত মানুষ থানায় ছুটে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ছোটন জনতার সামনে এসে সকলকে শান্তনা দেন। তার শান্তনা পেয়ে জনগন ফিরে যায়। পরে তিনি ওসি এনায়েত হোসেনের সাথে ইলিশার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বাসায় চলে যান।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..