রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০১:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি প্রধান আসামি গ্রেফতার মুরাদনগরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের বেঞ্চ সরবরাহ দা-বঁটি-ছুরি-চাপাতি বানাতে ব্যস্ত কামার শিল্পী, টুংটাং শব্দে মুখরিত তাড়াইল মির্জাগঞ্জে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ মিরপুর সাইন্স কলেজের ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে : ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরো দৃঢ় করার ব্যাপারে আশাবাদী মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী মির্জাগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বকর, ভা: চেয়ারম্যান শাওন মহিলা ভা: চেয়ারম্যান হাসিনা নির্বাচিত পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদেের সকল বিজয়ীরা নতুন মুখ

বাঙ্গালী আর বাঙলা কলেজের ইতিহাস একই সুতোয় গাঁথা

আফরুজা আভা (ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, স: বাঙলা কলেজ):
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩
  • ৫৮৬১ বার পঠিত

আফরুজা আভা:

প্রতিষ্ঠার পটভূমি ও ইতিহাস

 সাল ১৯৬২,

তৎকালীন আমাদের এই ভূখন্ড তথা পূর্ব পাকিস্থানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইংরেজি আর উর্দু মাধ্যমে পরিচালিত হতো। অর্থাৎ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাদান করা হতো ইংরেজি এবং উর্দু ভাষায়। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম দেখলেন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার  দাবি মেনে নেয়া হলেও তখনো দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। এ সময় তমদ্দুন মজলিসসহ অন্যান্য বাংলা ভাষাসৈনিক ও বেশকিছু শিক্ষাবিদ প্রচলিত উচ্চশিক্ষায়  বাংলা ভাষায় শিক্ষাদান চালুর দাবি জানালে  উর্দু প্রেমী ও বাংলা ভাষা আন্দোলনের  বিরোধিশক্তিরা  এ দাবিকে নানাভাবে ব্যঙ্গ করেন। এমনকি বাংলা মাধ্যমে পড়ালেখা চালু হলে চাকরি হবে না শুধু ‘বাঙলা মৌলবি’ জন্ম হবে বলেও ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেছিলেন তারা।

এমতাবস্থায়  উচ্চশিক্ষাস্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান  গুলোতে বাংলা মাধ্যমের প্রচলন শুরু এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার প্রসারের উদ্দেশ্যে একটি বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন আবশ্যক হয়ে পরে। এই প্রয়োজনকে অনুধাবন করেই প্রিন্সিপাল আবুল কাসেম বেশ কিছু শিক্ষাবিদ এবং ভাষা আন্দোলনের  গুরুত্বপূর্ন ব্যাক্তিবর্গদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৬১ সালে গঠিত এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে “বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় ” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখে  প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ১৯৬২ সালের ১ লা অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় “বাঙলা কলেজ”।  তৎকালীন পাকিস্থানের প্রথম বাংলা মাধ্যমের কলেজ হিসেবে  প্রতিষ্ঠিত বাঙলা কলেজের এই প্রতিষ্ঠাতা কমিটিতে প্রতিষ্ঠাতা আবুল কাসেম ছাড়াও কমিটির সভাপতি হিসেবে ছিলেন বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণে অনন্য অবদান রাখা লেখক ও গবেষক ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। এছাড়াও প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খাঁ, ডক্টর ইন্নাস আলীসহ  অন্যান্য প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ভাষাবিদগণও  উক্ত কমিটিতে ছিলেন ।

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠা-পরবর্তীতে বাঙলা কলেজের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয় বকশীবাজারের নবকুমার ইনস্টিটিউটে। একটানা ৭-৮ বছর নবকুমার ইনস্টিটিউটে নৈশ কলেজ হিসেবে কার্যক্রম চালানোর পর রাজধানীর মিরপুরে বাঙলা কলেজের স্থায়ী প্রাঙ্গণ স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে মোট ২৫ একর জমির সুবিশাল প্রাঙ্গণ নিয়ে মিরপুরের সবচেয়ে বড় এবং রাজধানীর অন্যতম বড় সরকারি কলেজ হিসেবে স্বগর্বে দাড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সরকারি বাঙলা কলেজ।

গতকাল, ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার ৬১ বছরে পা দিয়েছে। কিন্তু এত বছর পরে এসে আজও “বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে জন্ম নেয়া এই বাঙলা কলেজ প্রতিষ্ঠার  লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূর্ণতা পায়নি । বাংলা ভাষা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিজড়িত রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী  এই  কলেজকে বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য এর আগে বেশ কয়েকবার দাবি জানিয়েছে কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। গতকাল ১ অক্টোবর সরকারি বাঙলা কলেজের ৬১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে  ভাষা আন্দোলনের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণের অংশ হিসেবে বাঙলা কলেজকে  “বাঙলা বিশ্ববিদ্যালয়”  করা হোক এমন প্রত্যাশা ও দাবি জানিয়েছে কলেজের আপামর শিক্ষার্থীরা।

অবকাঠামো ও অন্যান্য

সরকারি বাঙলা কলেজের সর্বমোট আয়তন প্রায় ২৫ একর। কলেজ প্রাঙ্গনে নতুন পুরাতন সব মিলিয়ে মোট ৭-৮ টি ভবন দাড়িয়ে আছে। এর মাঝে সদ্য নতুন নির্মিত  ১০ তালাবিশিষ্ট সুউচ্চ ভবন দুটিতে রয়েছে লিফট সেবা, অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম এবং সুবিশাল লাইব্রেরিসহ অন্যান্য শিক্ষা ও যুগুপযোগী সুবিধা।

প্রস্তাবিত হয়েছে )  অনাবাসিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতের জন্য রয়েছে ২ টি কলেজ বাস। কলেজের পেছনের অংশে রয়েছে লেক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্রসমৃদ্ধ মনোরম পরিবেশ।  বিস্তৃত সবুজ মাঠ, দুপাশে গাছের ছায়াঘেরা রাস্তা কলেজের সৌন্দর্য্য আর প্রাকৃতিক পরিবেশকে মনোমুগ্ধ করে তোলে এর সাথে পুরো কলেজজুড়ে রোপণ করা বাহারি বৃক্ষ ও ফুলগাছের সমাহার প্রাঙ্গণের সৌন্দর্য্যকে অন্যতম মাত্রা দিয়েছে।

 

বিভাগ ও অনুষদ

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে শুধু উচ্চমাধ্যমিক আর ডিগ্রি কলেজ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করলেও, ১৯৮৫ সালে সরকারিকরণ এবং ১৯৯৭ সালে জাতীয় বিশ্বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার পরে কলেজটিতে অনার্স এবং মাস্টার্স কোর্স চালু হয়। বর্তমানে বিজ্ঞান অনুষদে ৭টি, ব্যাবসায় শিক্ষা অনুষদে ৪টি  এবং সামাজিক ও কলা অনুষদে ৮টিসহ  এই ৩ অনুষদের অধীনে সর্বমোট ১৯টি বিষয়ে অনার্স চালু আছে। প্রায় ১৪টির বেশি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে।

২০১৬ সালে কলেজটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে উক্ত বিষয়গুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাস, মানদন্ড অনুসরণের মাধ্যমে সরকারি বাঙলা কলেজসহ রাজধানীর ৭টি সরকারি কলেজের শিক্ষার মান ও অন্যান্য উন্নয়নের জন্য কাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থী

 সরকারি বাঙলা কলেজে  উচ্চমাধ্যমিক, অনার্স ও মাস্টার্সসহ সর্বমোট প্রায় ১৮-২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় ১৬৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা  অধ্যাপক, সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক এবং লেকচারার পদে কর্মরত আছেন। কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত আছে প্রফেসর মো জাহাঙ্গীর হোসেন এবং উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত আছে প্রফেসর  মিটুল চৌধুরী। বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন প্রফেসর সায়মা ফিরোজ।

 

সহশিক্ষা ও অন্যান্য সংগঠন

সরকারি বাঙলা কলেজ বিগত কয়েক দশক যাবৎ সহশিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। ডিবেটিং সোসাইটি, যুব থিয়েটার, সাংবাদিক সমিতিসহ কলেজে সহশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আরও বেশ কিছু সংগঠন।

বাঙলা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি(বিসিডিএস)

 ১৯৯৬ সালে বাঙলা কলেজ সর্বপ্রথম  বিতর্ক চর্চার যাত্রা শুরু করে। এরপর ২০১৬ সালে বাঙলা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি(বিসিডিএস) নাম নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সংগঠনটি কলেজ ও কলেজের বাহিরে বিতর্ক চর্চা চালিয়ে আসছে। জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত বিভিন্ন বিতর্ক প্রতিযোগিতাসহ টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতাগুলোতে অসংখ্যবার প্রশংসা কুড়িয়েছে বাঙলা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি। এ পর্যন্ত বিসিডিএস আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায় থেকে বেশ কিছু অর্জনে সমৃদ্ধ হয়েছে একইসাথে সরকারি বাঙলা কলেজকে বিভিন্ন জাতীয় প্রতিযোগিতা ও টেলিভিশন বিতর্কে অসংখ্যবার গৌরবান্বিত করেছে।

বর্তমানে কলেজের শিক্ষার্থীদের বিতর্ক প্রশিক্ষণ, বিতর্ক চর্চা এবং কলেজের বাহিরে বিভিন্ন জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা গুলোতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিতর্কের প্রসার ও চর্চা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বাঙলা কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি।

বাঙলা কলেজ যুব থিয়েটার(বাকযুথি)

২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত  হয়ে অভিনয় ও নাট্যকলা নিয়ে ক্যাম্পাস থিয়েটার কার্যক্রম শুরু করে বাঙলা কলেজ যুব থিয়েটার। পাশাপাশি দেশের ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলনের অন্যতম ভূমিকায় নেতৃত্বে দিয়ে আসছে এই সাংস্কৃতিক সংগঠনটি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের নাট্যকলা প্রশিক্ষণ, মঞ্চায়নসহ ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাহিরে কাজ করে যাচ্ছে বাঙলা কলেজ যুব থিয়েটারের কর্মীরা।

বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতি(বাকসাস)

 ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতি(বাকসাস)। মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে এরই মধ্যে কলেজের অন্যতম সক্রিয় সংগঠন হিসেবে উঠে এসেছে বাকসাস। কলেজের বিভিন্ন সমস্যা, অধিকারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সরব ছিল এ সংগঠনটি। এছাড়াও বাকসাস কলেজের সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো ও অন্যান্য প্রচার প্রসারের মাধ্যমে কলেজকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। বাকসাসের সাংবাদিকগণ মোহনা টিভি, আজকের পত্রিকা, নয় শতাব্দী, এশিয়ান টিভি, রাইজিং বিডি, মানবকণ্ঠ, বাংলাদেশ টুডেসহ  দেশের বিভিন্ন  জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও কলেজে অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে  নিয়োজিত সহসংগঠনগুলোর মধ্যে আছে:

  • বাঙলা কলেজ বিজ্ঞান ক্লাব
  • বাঙলা কলেজ আবৃত্তি সংসদ
  • বাঁধন (স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন)
  • বাঙলা কলেজ চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র সংসদ
  • রেড ক্রিসেন্ট
  • ক্লিন এন্ড গ্রীন ক্যাম্পাস
  • সেভ দ্য ফিউচার ফাউন্ডেশন
  • বাঙলা কলেজ সাহিত্য সংসদ
  • বিএনসিসি (সেনা, নৌ)
  • রোভার স্কাউট
  • বাঙলা কলেজ রেঞ্জার ইউনিট (গার্লস গাইড)
  • বাঙলা কলেজ ফেন্সিং ক্লাব

রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন

 সরকারি বাঙলা কলেজে রয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের অন্যতম একটি সক্রিয় শাখা “বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগ”। এছাড়াও রয়েছে অন্যান্য দলীয় ও নির্দলীয় ছাত্র রাজনৈতিক শাখা।  কলেজের শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ, ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাহিরে জাতীয় রাজনীতি চর্চা, শিক্ষার্থীদের দাবির ভিত্তিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ, কলেজ কেন্দ্রিক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহায়তাসহ  কলেজের সার্বিক কার্যক্রমে  বাঙলা কলেজ ছাত্রলীগ এবং অন্যান্য দলীয় ও নির্দলীয় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন গুলোর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে।

 শিক্ষা ও ভাষার অগ্রযাত্রায় বাঙলা কলেজের অবদান

  প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলা ভাষাকে শিক্ষাসহ সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ দেশের প্রতিটি স্বাধীকার আন্দোলনে  সক্রিয় ভূমিকা রেখে এসেছে ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি।

 প্রিন্সিপাল আবুল কাসেমের  নেতৃত্বে তৎকালীন বাঙলা কলেজের ছাত্র শিক্ষকদের সক্রিয় আন্দোলনর মাধ্যমেই শত বাধাবিপত্তি পেরিয়ে বাংলা মাধ্যমে লেখাপড়া চালুর পাশাপাশি বাংলা ভাষায় প্রশ্ন প্রণয়ন, বাংলা ভাষায় উচ্চশিক্ষা চালু থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট  সকল দাবিগুলো বাস্তবায়নের রূপ পায়। পরবর্তীতে বাংলা মাধ্যমে শিক্ষাদানের সার্বিক উন্নয়নের নেতৃত্বদানারী অসংখ্য অবদান রেখে গেছে সরকারি বাঙলা কলেজ। 

১৯৮৫ সালে বাঙলা কলেজ সরকারিকরণের পূর্ব পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমে শিক্ষাদানের প্রচলনকে সমৃদ্ধ ও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে বাঙলা কলেজের তৎকালীন প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপালসহ  শিক্ষক ও অধ্যাপকগণ অনেকে অবৈতনিক, কেউবা নামমাত্র বেতনে অধ্যাপনা ও আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। স্বাধীনতার আগেই বাঙলা মাধ্যমে শিক্ষাদান ও জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহারকে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকারি বাঙলা কলেজ ও কলেজের এসব আন্দোলন ও কার্যক্রম অগ্রহণী ভূমিকা রেখেছিল।

জাতীয় সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বাঙলা কলেজ

 ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর অবাঙালি বিহারীরা বাঙলা কলেজ দখল করে নেয়। দীর্ঘ নয় মাস অবরুদ্ধ ছিল এ কলেজটি,  এ সময় নাম পরিবর্তন  করে বাঙলা কলেজের পরিবর্তে ‘উর্দু কলেজ’ নাম দিয়ে  সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। কলেজের প্রশাসন ভবনের কিছু কক্ষকে বানানো হয়েছিল টর্চার সেল। কলেজের বিভিন্ন স্থানে বানানো হয় বধ্যভূমি আর গণকবর।

পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধকালীন এ ইতিহাসকে সংরক্ষণের উদ্যোগ হিসেবে বাঙলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ফেরদৌসী খানের নেতৃত্বে একটি “বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও সংস্কার” প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো জাহাঙ্গীর , কিছু শিক্ষক ও ছাত্রদের সহায়তায় কলেজ বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত  করে স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়েছে।

পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষকে বানানো হয়েছে “মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি”। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ে সাজানো তাক, তথ্যচিত্র  আর ইতিহাস বিজড়িত নানা  স্থিরচিত্র প্রদর্শনের মাধ্যেমে ঐতিহাসিক এ কক্ষ যেন জাতীয় ইতিহাস চেতনায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছে।

মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলন, অন্যান্য অধিকার আন্দোলনসহ স্বাধীনতার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলনে রাজধানীর এই কলেজটি সর্বদা একটি সক্রিয় অংশ হিসেবে অবদান রেখেছে।

সরকারি বাঙলা কলেজের প্রতিটি স্থাপনায়, প্রতিটি ইট পাথরের গায়ে যেন বাংলা  আর বাঙ্গালীর ইতিহাস, তাদের আর্তনাদ, তাদের জাগরণ আর তাদের বিজয়ের গল্প লেখা আছে। ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধসহ অন্যান্য সকল জাতীয় ইতিহাস যেন বাংলা কলেজেরই অভিন্ন অংশ। “বাঙলা কলেজ”  এর নাম পরিবর্তন করে “উর্দু কলেজ” নামে সাইনবোর্ড টাঙানোর মতই যতবার বাঙলা আর বাঙ্গালীর ওপর আঘাত এসেছে ততবারই আহত হয়েছে “বাঙলা” নামধারী এই কলেজটি। একইভাবে যতবার বাঙ্গালীরা অধিকার সচেতন হয়ে গর্জে উঠেছে ততবারই আবুল কাসেম, শহীদুল্লাহদের সাথে গর্জে উঠেছে বাঙলা কলেজ। মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে, অপ্রতিরোধ্য শক্তি নিয়ে রাজপথে নেমেছে নিজ ভাষা, নিজ অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে। তাই আমাদের “বাঙ্গালী” হয়ে ওঠার ইতিহাস আর বাঙলা কলেজের গল্প একই সূত্রে গাঁথা থাকবে আজীবন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..