মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রাঙ্গাবালী উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি আরিফ, সম্পাদক জামিল পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি প্রধান আসামি গ্রেফতার মুরাদনগরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিকের বেঞ্চ সরবরাহ দা-বঁটি-ছুরি-চাপাতি বানাতে ব্যস্ত কামার শিল্পী, টুংটাং শব্দে মুখরিত তাড়াইল মির্জাগঞ্জে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ মিরপুর সাইন্স কলেজের ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হবে : ওবায়দুল কাদের শেখ হাসিনা-মোদি বৈঠকে দু’দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরো দৃঢ় করার ব্যাপারে আশাবাদী মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী মির্জাগঞ্জে উপজেলা চেয়ারম্যান আবু বকর, ভা: চেয়ারম্যান শাওন মহিলা ভা: চেয়ারম্যান হাসিনা নির্বাচিত

শেরপুর-৩ : ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাঈমের শেষ নির্বাচনী জনসভায় ৫২ বছরের রেকর্ড

শেরপুর প্রতিনিধি:
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৫৮১০ বার পঠিত

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে শুক্রবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টায়। সেই হিসাবে আজই আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ছিল শেষ দিন। শেষ সময়ে এসে বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে সর্বোচ্চ জনসমাগম করে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শেষ করলেন শেরপুর জেলার শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলা) ট্রাক মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম।

ঝিনাগাতী উপজেলায় ৫২ বছরের ইতিহাস ভেঙ্গে জনসমাগম ছিল এবারই সর্বোচ্চ । সাধারণ ভোটাররা বলছেন, জীবদ্দশায় এত বড় জনসমাগম অতীতে তারা দেখেননি। নৌকার মাঝির বিরুদ্ধে গিয়ে দল মত নির্বিশেষে সবাই ট্রাক মার্কার প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে এই সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ঝিনাইগাতী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বিকেল থেকে শুরু হয়ে রাত আটটায় শেষ হওয়া এই সমাবেশে অন্তত ৩০ হাজারের অধিক মানুষের উপস্থিতি ছিল।

স্বাধীনতার ৫২ বছর পার হলেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসলেও ঝিনাইগাতী থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে পা রাখেননি এই উপজেলার কোন নেতা। ঝিনাইগাতীবাসীর আশা এইবার ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী থেকে আলহাজ্ব এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম ৭ জানুয়ারির ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেয়ে জাতীয় সংসদে পা রাখবেন।

সমাবেশে আসা একাধিক প্রবীণ ব্যক্তির সাথে কথা হলে তারা জানান, স্বতন্ত্র উন্মুক্ত হওয়ায় দলের মনোনয়ন না পেলেও ঝিনাইগাতীবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে নির্বাচনে এসেছেন নাইম। শুধু আওয়ামী লীগ নয় অন্যান্য দলের ভোটাররাও আজকের সমাবেশে এসে তাকে সমর্থন দিয়েছেন।

সমাবেশে সরেজমিনে দেখা যায়, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার অন্তত কয়েকহাজার বিএনপি নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে ট্রাক মার্কাকে সমর্থন দিয়েছেন। তারা মনে করেন, সাবেক এমপির আমলে হামলা মামলার শিকার হয়ে তারা এখন বিপর্যস্থ। ট্রাক মার্কা জিতলে অন্তত তারা মামলা হামলা থেকে বাঁচবেন।

সমাবেশ সূত্র জানিয়েছে, শ্রীবরদী এবং ঝিনাইগাতীর অধিকাংশ বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী এবং এদের সাধারণ ভোট ব্যাংকের ভোট ট্রাক মার্কায় পড়বে। নৌকার প্রার্থীর জনবিচ্ছিন্নতা এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীণ আচার ব্যবহার দেখে তারা নৌকায় ভোট দেবেন না।

সমাবেশ থেকে আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম নির্বাচিত হতে পারেন ঝিনাইগাতী পৌরসভা করবেন, ঝিনাইগাতীতে শফিউদ্দিন কলেজকে সরকারীকরণ করবেন, ঝিনাইগাতে মহিলা কলেজ কে অনার্স খুলবে, দুই উপজেলা তিনটি পর্যটক কেন্দ্রকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে, সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতীয় হাতির আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সংসদে আলোচনা করবে, বেসরকারি এমপিওভক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণের ব্যাপারে সংসদে কথা বলবে, এলাকার রাস্তাঘাট অবকাঠামো উন্নয়নের প্রসারসহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীবরদী উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আ’লীগের মনোনীত প্রার্থী এ.ডি.এম শহিদুল ইসলাম বার বার নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে লবিং করে নৌকা প্রতীক বাগিয়ে এনেছেন। ২০০৩ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা অবস্থাতেই নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে শ্রীবরদীর খরিয়াকাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন। পরের নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে হারলেও তৃতীয় দফার নির্বাচনে পুনরায় নৌকার বিরুদ্ধে বিজয়ী হন। এরপর ২০১৯ সালে উপজেলার পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বারবার নৌকার বিরোধীতা করায় দল থেকে বহিষ্কার হলেও পরবর্তীতে লবিং করে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় দলে ফেরেন। বার বার নৌকার বিরুদ্ধে গিয়ে এখন নৌকার হাল ধরায় শ্রীবরদী, ঝিনাগাতী ও শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের সমর্থন ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম।

জানা গেছে, শেরপুর তিন আসন (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) এবার ভোটারের সংখ্যা শ্রীবরদী উপজেলা- ২,৩৩,০৬৮ জন ওঝিনাইগাতী উপজেলা- ১,৪৯,৩৩৬ জন। বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিএনপির ভোট ব্যাংক রয়েছে। আর এবার এই ভোট ব্যাংকের অধিকাংশ পড়বে ট্রাক মার্কায়। এছাড়াও জাতীয় পার্টির একটি বড় অংশ ট্রাক মার্কাকে সমর্থন দিয়েছেন। আওয়ামীলীগের সিংহভাগ নেতাকর্মীর সমর্থন রয়েছে আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম কেন্দ্রিক। সব মিলিয়ে সাধারণ ভোটারদের হিসেব-নিকেশ অনুযায়ী ট্রাক মার্কার বিজয় নিশ্চিত বলেই মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার ঝিনাইগাতী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের সমাবেশে আওয়ামী লীগ ঝিনাইগাতী উপজেলা শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি শরিফ সরকার এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঝিনাইগাতী উপজেলা সাবেক কৃষক লীগের সভাপতি সাজু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক ও শামছুল, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অনিল বরশি বক্তা সোলাইমান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সাইফুল, রানী শিমুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়াছেক বিল্লাহ বিল্লাল ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগ এবং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিটলার, শ্রীবরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু সাঈদ, ধানশাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, মাঝলিকান্দা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, ঝিনাইগাতী উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আয়েশা সিদ্দিকা রূপালী, কাংশা ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল আজিজ ধুলু সহ দুই উপজেলার আওয়ামী লীগ বিএনপি এবং জাসদ সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..