শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৩, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

ভোলায় চিরায়িত বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির চুলা দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে

সাব্বির আলম বাবু , নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৫৭৭০ বার পঠিত

ডিজিটাল আধুনিকতার ছোঁয়ায় ভোলার গ্রামীণ মিটি মিটি আলোর মাটির চুলা দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় এ জেলায় গ্রামীণ মানুষের রান্নার একমাত্র অবলম্বন ছিল মাটির চুলা। বর্তমানে বিদ্যুৎ আর গ্যাসের যুগে কাঠ, খড়ি জ্বালানির ঝামেলা এড়াতে ঝুঁকছেন বিদ্যুৎ, গ্যাস, ম্যাজিক চুলার ব্যবহারের দিকে। এতে আবহমান বাংলার চিরায়িত ঐতিহ্যবাহী মাটির চুলা হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে মাটির চুলায় রান্না করা খাবার ও রান্নার পরের স্বাদ। হারিয়ে যাচ্ছে মায়েদের নিপুন হাতের শৈল্পিক হস্তশিল্প।

শহরে অবস্থানরত প্রবীণ সামাজিক ব্যাক্তিত্ব সাফিজল বিশ্বাস জানান, মাটির তৈরি চুলার কথা মনে করলেই মনে পড়ে যায়, দাদি-নানি ও মায়ের হাতের লাকড়ি দিয়ে রান্নার কথা। তাদের সেই রান্নার স্বাদ যেন জিভে পানি এনে দেয়। কালের আবর্তে সেই মাটির চুলার ব্যবহার কমে যাচ্ছে। তবে গ্রামাঞ্চলের কিছু পরিবারে রান্নার কাজে মাটির চুলা ব্যবহার চোখে পড়লেও শহরাঞ্চলে এ চুলার ব্যবহার নেই বললে চলে।তবে মাটির চুলায় কাঠ খড়ি দিয়ে সহনীয় তাপে রান্নার স্বাদ ও পুষ্টিগুন বেশি। বিদ্যুৎ,গ্যাসের মাত্রারিক্ত তাপের রান্নায় পুষ্টিগুণ ও স্বাদ কম।

চরলক্ষী গ্রামের প্রবীণ গৃহবধূ মমতাজ বলেন, গ্রাম বাংলার আবহমানকাল থেকেই গাছপালার শুকনো কাঠ, পাতা দিয়ে রান্না করাটা একটি ঐতিহ্যে। এখন উন্নত চুলা বা গ্যাসের চুলা ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এতে মাটির চুলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। মাটির চুলার ছাই শিমসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি খেতে ছিটিয়ে দিলে পোকার আক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি মাছ বাছাকুটা (পরিস্কার), হাঁড়ি-পাতিল ধুতে চুলার ছাইয়ের ঝুড়ি নেই।

তিনি আরো বলেন, সেই চুলার ছাই এখন খুঁজি পাওয়া যায়না। শীতের দিনে চুলার পাড়ে বসে বউ-ঝি, মা-বোনেরা কত গল্প, কিচ্ছা বলতো। চুলা উঠে যাওয়ায় এ রকম আয়োজন আর চোখে পড়েনা। বিশেষ করে মাটির চুলার দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম। গ্যাসের চুলার সিলিন্ডার বিস্ফোরনে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। গ্যাসের চুলার সুইচ টিপ দিলে ভাকাস করি আগুন জলি উঠে। এতে অনেকে ভয় পান।এজন্য মাটির চুলায় ভাল ছিল।

একই গ্রামের প্রবীণ গৃহবধূ কুমুদিনী বেওয়া চুলা তৈরির অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, প্রথমে গোলাকার গর্ত করে বড় আকারে মাটির পাতিল বসানো হয়। আগুন নির্গমের জন্য পাতিলের উপরিভাগ গোলাকার করে ভাঙ্গানো হয়। গর্তের তিনদিকে তিনটি ইট বসানো হয়। যা উছকুন্না বলা হয়। এর পর চুলার অগ্রভাগে জ্বালানির উপকরণ প্রবশের জন্য হাঁড়ি-পাতিলের কানাটা সংযুক্ত করা হয়। এর পর এঁটেল মাটির সাথে গোবর ও পানি দিয়ে মন্ড তৈরি করা হয়। এ মন্ডের নিখুঁত গাঁথুনি দিয়ে তৈরি হয় চুলা।এরপর মনের মাধুরী মিশে চুলার চারপাশ মসৃণ করতে কাদা পানি ও কাপড়ের ন্যাতা কিংবা পার্টের আঁশের থেইসরা দিয়ে লেপ্টে দেয়া হয়।উছকুন্না (স্তম্ভ) ওপর হাঁড়ি বা পাতিল বসিয়ে রান্না করা হয়। যা সব গৃহবধুরা চুলা তৈরিতে পারদর্শী ছিলনা। যারা পাড়ত তাদের কদর ছিল পাড়া জুড়ে।

দয়া করে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর..